নিউজিল্যান্ডের গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোয় বিশ্বব্যাপী দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোয় চাহিদার বৈচিত্র্য ও ঊর্ধ্বমুখিতা পণ্যটির বাজারদরে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। খবর এনজেড হেরাল্ড, আইরিশ ফারমারস জার্নাল ও মিল্ক ভ্যালু পোর্টাল।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। (ডব্লিউএমপি) জিডিটির সর্বশেষ নিলামে এ পণ্যের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ৩৬ ডলারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ও আঞ্চলিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ সর্বশেষ নিলামে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননি ছাড়া গুঁড়া দুধ (এসএমপি)। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির মূল্য নেমেছে টনপ্রতি ২ হাজার ৭৫৬ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কম। এ সময় মাখনের দাম ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি নেমেছে ৭ হাজার ১৪৪ ডলারে। এছাড়া জিডিটিতে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম টনপ্রতি ৭ হাজার ৭৮ ডলারে স্থিতিশীল ছিল।
নিলামে চেডার পনিরের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৪ হাজার ৫৪৮ ডলার। এ সময় মোজারেলা পনিরের দাম কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) হেড অব ডেইরি ইনসাইটস ক্রিস্টিনা আলভারাদো বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে দুগ্ধজাত পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার স্থিতিশীলতা বাজারে ভারসাম্য তৈরি করছে। দাম কিছুটা কম থাকলেও চলমান শুল্ক আলোচনা ও আঞ্চলিক ক্রয় বৈচিত্র্যের কারণে বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়নি।
এছাড়া আঞ্চলিক চাহিদার পরিবর্তনেও দেখা গেছে বৈচিত্র্য। মোট ক্রয়ে মধ্যপ্রাচ্যের হিস্যা বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের নিলামে ছিল ৯ শতাংশ। চীনের হিস্যা ৪৩ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এ সময় ইউরোপ, কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রেতারা সক্রিয়ভাবে বাজারে অংশ নিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউজিল্যান্ডের বসন্তকালে দুধ উৎপাদন বাড়ার আগেও দুগ্ধজাত পণ্যের নিলামদরে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির জলবায়ু, উর্বর মাটি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা দুধ উৎপাদনে সহায়ক। নিউজিল্যান্ডে দুধ উৎপাদন মূলত বসন্তকালে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) বেড়ে যায়। এ সময় গরুর চারণভূমি সবুজ ও তাজা থাকে। দেশটিতে উৎপাদিত দুধের বড় অংশ রফতানির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। নিউজিল্যান্ডের জিডিপির বড় অংশ আসে দুগ্ধজাত পণ্য থেকে।